হিলারির সঙ্গে দীপু মনির বৈঠক |
|
|
Thu, Sep 17th, 2009 1:15 pm BdST |
Dial 2324 from your mobile for latest news |
|
|
|
আরশাদ মাহমুদ ওয়াশিংটন থেকে ওয়াশিংটন, সেপ্টেম্বর ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির সঙ্গে বুধবার বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তবে বাংলাদেশের চাওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও আশ্বাস মেলেনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। বৈঠক শেষ দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথা বলেছেন। কিন্তু কীভাবে তা জোরদার হবে- দুই জনের কারও কাছ থেকেও তার সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং য্ক্তুরাষ্ট্র সরকারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশন (এমসিসি) ফান্ড থেকে সহায়তা চাওয়া হয়। তবে দুটির একটিতেও সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস পাওয়া যায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তাদের ফেরত দেওয়ার আহ্বানও জানান দীপু মনি। এক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কোনও প্রতিশ্র"তি পাননি তিনি। বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে দীপু মনি ও হিলারির বৈঠক হয়। তবে সফরকারী বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রতিনিধির বাইরে শুধু সংবাদ সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদকই ছিলেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ঐতিহাসিক 'ট্রিটি রুমে' সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আশা প্রকাশ করেন। কীভাবে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হতে পারে এবং এ অগ্রগতি পরিমাপের কোনও পদ্ধতি রয়েছে কিনা- জানতে চাওয়া হলে দুজনের কেউই তা ব্যাখ্যা করতে পারেননি। বাংলাদেশ বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ও এমসিসিতে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। উন্নয়রশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে ৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ তহবিল প্রতিষ্ঠা করে। বৈঠকে দীপু মনি এ তহবিল থেকে সহায়তা এবং পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেশের পক্ষ থেকে আবার চান। সংবাদ সম্মেলনে গাঢ় সবুজ শাড়ি পরা দীপু মনিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। বক্তব্য রাখার সময়ও তিনি ছিলেন সপ্রতিভ। হিলারি বলেন, এমসিসি তহবিল থেকে সহায়তা পেতে একটি দেশকে পূর্ণ মাত্রায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি রোধের মতো কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। আর সহায়তা পেতে এ ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশকে উন্নতি দেখাতে হবে, বলেন তিনি। হিলারি স্পষ্টভাবে না বললেও এমসিসি থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা পেতে দুর্নীতি যে এখনও একটি বড় বাধা, তা স্পষ্ট। শাসক দলের সাপ্রতিক দরপত্র সন্ত্রাস সংবাদ মাধ্যমে যে ভাবে উঠে এসেছে, তাতে বাংলাদেশের চাওয়া পূরণের স্বপ্ন আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে। পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়ে হিলারির বক্তব্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, সে দেশের সরকার যদি বাংলাদেশের অনুরোধ রক্ষা করতেও চায়ও, তাতেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। সংবাদ সম্মেলনে দীপু মনি জানান, বঙ্গবন্ধুর যে সব খুনী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তাদের হস্তান্তরের জন্য তিনি হিলারিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়েও হিলারি তেমন কোনও আশ্বাস দেননি। কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠকে তেমন কোনও ফলাফল নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন একটিই, তা হলো হিলারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দৃষ্টিগ্রাহ্য সফলতা দেখাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের চাওয়া অধরাই থেকে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য হিলারি বাংলাদেশে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার প্রশংসা করেন। গত শতকের '৯০ এর দশকে বাংলাদেশ সফরের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দীপু মনি তার সম্মানে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ইফতার পার্টিতেও অংশ নেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএম/এফএফ/এমআই/১৩০০ ঘ. |
| WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
|
|
|
|