চট্টগ্রাম, সেপ্টেম্বর ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে 'অপরিপক্ক' হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি প্রি-ম্যাচিউর (অপরিপক্ক)। ... ... আমরা এটিকে পূর্ব তিমুর কিংবা ইসরায়েল হতে দিতে পারি না।" গত আট মাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন এরশাদ। বর্তমান সরকারের শাসন নিয়ে তিনি এর আগে কয়েক দফা সমালোচনা করলেও এই প্রথম সরকারের কোন সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধীতা করলেন। সরকার পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৯ জুলাই ওই অঞ্চল থেকে তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে সেখানে স্থাপিত নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫টি ক্যাম্পও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক ব্রিগেড সৈন্য প্রত্যাহার শেষ করার কথা। তিন পার্বত্য জেলা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে এ বিষয়ে এখনই আর কোনও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এরশাদ। অবশ্য সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সরকার ভালো মনে করেছে, তাই সেনা প্রত্যাহার করেছে। তবে পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণের পর সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।" এর ফলাফল পরে বোঝা যাবে উল্লেখ করে সাবেক এই জেনারেল বলেন, "কোনও গোষ্ঠী যদি দাবি করে, সেখানে সেনাবাহিনী বা অ-আদিবাসীরা থাকতে পারবে না- সেটা অন্যায়। কারণ, তারা বাংলাদেশেরই অংশ।" সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের আমলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছিলো। মহাজোট সরকারের আট মাসে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত ছিল মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, "কয়েকটি জায়গায় সরকার সফলতার পরিচয় দিতে পারেনি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ কথা এখন সবার মুখে মুখে।" তিনি বলেন, "আশা করছি, ঈদের পর সরকার এ দু'টি বিষয় নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেবে।" এ সময়ে আইন-শৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং মন্ত্রীদের কাজে সমন্বয়হীনতার কারণে মহাজোট সরকার ব্যর্থ কি না জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, "এতো অল্প সময়ে কোনও সরকারকে ব্যর্থ বলা যাবে না।" 'ক্রসফায়ার' প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এটি ক্রসফায়ার নয়, বন্দুকযুদ্ধ। সন্ত্রাস বন্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ- যা-ই হোক না কেন, গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর কারণে লাখ লাখ লোক তো দুর্ভোগ পোহাতে পারে না।" মহাজোটের অন্যতম শরীক হওয়ার পরও সরকারে প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তার দলের নেতারা কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেও হতাশ নয় বলে জানান এরশাদ। তিনি বলেন, "এখনও পাইনি, ভবিষ্যতে পাব। এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করার কিছু নেই। "দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। তাই তাদের লোকজনদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে- এটাই তো স্বাভাবিক", বলেন তিনি। কিছু পাওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি মহাজোটে যোগ দেয়নি দাবি করে এরশাদ বলেন, "নির্বাচনের সময় জোট করার অন্যতম কারণ ছিল চারদলীয় জোট সরকারের নির্যাতন-শোষণ থেকে দেশকে রক্ষা করা।" জানুয়ারিতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল: দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এরশাদ বলেন, "তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল কমিটি গঠনের পর আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলন করা হবে।" আগামী জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার শক্তি সঞ্চয়ের জন্য নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, "জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা থাকলেও সংগঠন নেই এমন অভিযোগ পাওয়া যায় অনেক এলাকা থেকে। এ দুর্নাম দূর করে জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে সকলকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।" চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক শোলায়মান শেঠের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরচ্ছফা সরকার, বান্দরবান জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভার আগে এরশাদ দুঃস্থদের মাঝে ঈদের কাপড় ও ইফতার বিলি করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরএআর/এজে/এসএইচ/২১০৬ ঘ. |