ঢাকা, অক্টোবর ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম)- রোববার সংসদের প্রথম সারিতে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সাংসদের অনুপস্থিতি দেখে স্পিকার আব্দুল হামিদ যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার জবাব দিলেন সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সংসদীয় রীতির বিশেষজ্ঞ এম এন কাউলকে উদ্ধৃত করে সোমবার তিনি সংসদে বলেন, "স্পিকার হচ্ছেন সংসদের সেবক। তিনি প্রভু নন। কোনো সাংসদের পয়েন্ট অফ অর্ডারেই শুধু রুলিং দিতে পারেন স্পিকার।" জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। লতিফ সিদ্দিকী আরো বলেন, "স্পিকার স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো কথা বলতে পারেন না।" আব্দুল হামিদকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, "স্বপ্রতিভতা ও প্রগলভতা এক নয়।" রোববার প্রথম সারিতে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সাংসদের অনুপস্থিতি দেখে স্পিকার আব্দুল হামিদ অধিবেশনের শুরুতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, "এ জিনিসটা আমার খুব ভালো লাগছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে আছেন। কিন্তু, ফ্রন্ট রো (সামনের সারি) খালি। এটা আমি সহজভাবে নিতে পারছি না।" অধিবেশন চলাকালে সাংসদরা অধিবেশন কক্ষে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকলে স্পিকার পুনরায় তার অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, "আপনারা একে অপেরের সাথে যেভাবে কথা বলছেন, তাতে শব্দের সৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এটা একটা মাছের বাজার।" অধিবেশনে আছরের নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, "সংসদীয় রাজনীতি যখন কুয়াশাচ্ছন্ন ও ধুয়াচ্ছন্ন, তখন স্পিকারের এরকম বক্তব্য, যারা সংসদীয় গণতন্ত্রকে অকার্যকর করতে চান বা কালিমালেপন করতে চান, তাদের জন্য হাতিয়ার বা অতিরিক্ত শক্তির বাহন হয়ে দাঁড়াবে।" পাটমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, "এই সংসদ মাছের বাজার হলে আড়তদারটা কে ?" তিনি আরো বলেন, "কোনো শব্দ প্রয়োগের আগে মনে রাখতে হবে তা কী হয়ে দাঁড়ায়। সংসদের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন আচরণ করা উচিত নয়। যেন সংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।" লতিফ সিদ্দিকী বলেন, "স্পিকারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন টক শো'তে জোট সরকারের সুবিধাভোগী সাংবাদিকরা যা বলেছেন তাতে আমরা ব্যথিত হয়েছি।" তিনি আরো বলেন, "সংসদে মন্ত্রীরা কখন উপস্থিত থাকবেন- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না। বিল উত্থাপন করতে বা প্রশ্নের জবাব দিতে মন্ত্রীরা সংসদে উপস্থিত থাকবেন। স্পিকারের যেমন কিছু দায়দায়িত্ব আছে, মন্ত্রীদেরও সেরকম দায়দায়িত্ব আছে। সেজন্য মন্ত্রীরা সব সময় সংসদে উপস্থিত থাকেন না।" বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম/এসইউএম/কেআরসি/এসএম/পিসি/এইচএ/১৯৩২ ঘ. |