সর্বশেষ :
partners logo
12:23 pm BdST, Thursday, Sep 9, 2010
যুদ্ধাপরাধের বিচার এ মেয়াদেই: আশরাফ
Sat, Feb 27th, 2010 5:29 pm BdST
Dial 2000 from your GP mobile for latest news  
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের এ মেয়াদেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতার জন্য বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করেছেন তিনি।

আশরাফ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ এ কথা বলেন।

শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর আশরাফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এ সরকারের সময়ই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।"

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনমত গড়তে আওয়ামী লীগ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আশরাফ বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৬ শতাংশ এবং নতুন প্রজন্মের শতকরা ৯৮ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।

আশরাফ জনমত জরিপের উৎস জানাননি, তবে কয়েকটি সংবাদপত্রের চালানো জনমত জরিপে এ চিত্র ফুটে ওঠে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আশরাফ বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনা 'ম্যান মেইড'। জিয়াউর রহমান সাহেব এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন বাঙালি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে। তখনই সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তো এই পরিস্থিতি ছিলো না।"

তিনি আরো বলেন, "এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন শান্তি ফিরে না আসে, সে জন্য বিএনপি-জামাত জোট এখনকার এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।"

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষে সপ্রতি বেশ কয়েকজন নিহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে সেনাবাহিনী গুলি ছোড়ে বলেও পাহাড়িদের অভিযোগ। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত বছর কিছু সেনাক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া হয়। বিএনপি দাবি করছে, সেনাপ্রত্যাহারের কারণেই সেখানে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার দায় নিতে রাজি হননি আশরাফ।

তিনি বলেন, "ছাত্রলীগ এখন আর আওয়ামী লীগের সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন নয়। শেখ হাসিনাও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী নন। আমরা দলীয়ভাবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না।"

"তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেউ ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে রেহাই দেওয়া হবে না। সে যে দলেরই হোক না কেন", যোগ করেন তিনি।

বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রয়েছে। এটা নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।"

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়ে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাওয়া হলে আশরাফ বলেন, "উনি (জয়) তো দেশেই নেই। উনি দেশে এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাকে সদস্য করার জন্য রংপুরের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিলো।"

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়া নিশ্চিত করতে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে আশরাফ জানান।

তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে শেখ হাসিনা সাংগঠনিক সম্পাদকদের আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

"দল এবং সরকারের বিভিন্ন কর্যিক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের আরো সক্রিয় হতে বলেছেন তিনি (হাসিনা)।"

সদস্য সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো এক কোটির বেশি নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। এক্ষেত্রে নারী ও নতুন প্রজন্মের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।

দু'টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ১১ হাজার টাকা সদস্য সংগ্রহ বাবদ এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস এবং পহেলা বৈশাখের কর্মসূচিও চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এমআই/১৭০০ ঘ.
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
Share |
 

Rank