মিন্টু চৌধুরী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক চট্টগ্রাম, নভেম্বর ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ট্রেনে-বাসে কোথাও বসার জায়গা নেই। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে না টিকিট। কিন্তু দাঁড়িয়ে বা ছাদে উঠে হলেও পৌঁছাতে হবে নিজ গন্তব্যে। ঈদ বলে কথা। এত দুর্ভোগ সত্ত্বেও মানুষ চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়ছে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দর নগরীর বিআরটিসি মোড়, অলংকার মোড়, কদমতলী, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, বটতলী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ঈদের আগ মুহূর্তের এ চিরচেনা চিত্র। বাস টার্মিনাল থেকে রেল স্টেশন সবখানেই ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোরবানির ঈদের আগে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস হলেও দুপুর থেকেই স্টেশন-টার্মিনাল-ঘাটে নামে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা তিন দিন থেকে এক সপ্তাহের জন্য শহর ছাড়ছেন। বিকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে চাঁদপুরগামী ট্রেনের যাত্রী আবদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অগ্রিম টিকিট না করায় দুপুরে স্টেশনে এসে ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়েও খুশি আবদুর রহমান। তিনি হাসিমুখেই বলেন, "শেষ পর্যন্ত বাড়ি যেতে পারছি এটাই বড় কথা।" টিকিট না পেয়ে শত শত মানুষ ট্রেনের ছাদে চেপে বসেন। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিআরটিসি, অলংকার মোড়ের বাস কাউন্টারগুলোতে ঢাকা ছাড়া অন্য কোন জেলার কোন দূরপাল্লার বাসের টিকিট নেই। রেলওয়ের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে যাওয়ায় সেখানেও কোন টিকিট নেই। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলেই দূরপাল্লার বাসের টিকিট মিলছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, নওঁগা, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, কুষ্টিয়াসহ দূর পাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচালকারী বাসমালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তারা একরকম ঘোষণা দিয়েই অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছিলেন। রংপুরগামী বেসরকারি চাকরিজীবী সুজন হোসেন বৃহস্পতিবার বিকালে বিআরটিসি মোড়ের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও টিকিট পাননি। তিনি জানান, অন্য সময়ে চট্টগ্রাম থেকে রংপুরের ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও বাস মালিকরা ঈদ উপলক্ষে ৭০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। তিনি হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের বাইরে এক 'দালালের' কাছ থেকে আরও ১০০ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কিনে রংপুর রওনা দেন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কর্তব্যরত মো. হীরু বলেন, মালিক সমিতি 'ঈদ উপলক্ষে নতুন ভাড়া' নির্ধারণ করেছেন। এর বাইরে অতিরিক্ত কোন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। নগরের কদমতলী ও বহদ্দার হাট বাস টার্মিনালেও বৃহস্পতিবার ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কদমতলী থেকে চাটখিল, রামগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। এখানেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেনীর একটি বাসের কাউন্টারে টিকিট নিতে আসা মনির হোসেন জানান, সাধারণত ফেনীর ভাড়া ১০০ টাকা। কিন্তু বলাকায় ঈদ উপলক্ষে ১২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও কক্সবাজার অভিমুখী বাসে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/এসকে/২৩১০ঘ. |