ভোলা, নভেম্বর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভোলার তেঁতুলিয়া নদীতে দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ থেকে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের অভিযান শনিবার সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয়েছে। রোববার সকালে আবার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৫ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশু আছে ১১টি। তবে আরো ৩০ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। উদ্ধার অভিযান স্থগিত হলেও নিখোঁজ যাত্রীদের অনেক স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষ তেঁতুলিয়ার পড়ে অবস্থান করছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসক মো. মেসবাহুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাত হয়ে যাওয়ায় আজকের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।" দুর্ঘটনাস্থলে লালমোহন থানার পাঁচ পুলিশ সদস্য পাহারায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, "রোববার সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।" ওদিকে, শনিবার সকালে বরিশাল থেকে রওনা হওয়া উদ্ধাররকারী জাহাজ হামজা রাত ৮টা পর্যন্তও দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর কিছুক্ষণ পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। এ সময় তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তিন হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী এমভি কোকো-৪ নামে লঞ্চটি শুক্রবার রাতে তলা ফেটে আংশিক ডুবে যায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দিন বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পানি কম থাকার কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। বিকাল ৩টার দিকে নৌ বাহিনীর ডুবুরিরা দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের ভিতর ঢুকে উদ্ধার কাজ চালায় বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসক মেসবাহুল ইসলাম বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এ ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বাইতুল আমিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার) নূরুদ্দীন আল ফারুক সকালে সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা লাশের মধ্যে তিনজন নারী ও সাতটি শিশু রয়েছে। এরা হচ্ছে- ফারুক (২), আকলিমা (২৫), কবিতা (৩), সুরভী (৭), তমা (৮), শাহনূর (৪৫), রিপন (১২), খোশ বাহার (৪০), তামান্না (১৫) এবং অজ্ঞাত এক বছর বয়সি এক শিশু। উদ্ধার করা অন্যদের নাম জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আরো চারটি লাশ পাওয়া গেছে, যেগুলো স্বজনরা নিয়ে গেছেন। লালমোহন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, লঞ্চটির যাত্রীরা ছিলেন চরফ্যাশন ও লালমোহন উপজেলার। লঞ্চটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ছয়শর মতো হলেও এতে দেড় হাজারের বেশি যাত্রী ছিলো বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এটি শুক্রবার বিকালে ঢাকার সদরঘাট ছেড়ে যায়। লঞ্চের কয়েকজন যাত্রী জানান, রাত ১০টার দিকে লালমোহনের নাজিরপুর ঘাটের কাছে এলে লঞ্চটির তলা ফেটে যায়। এটি তখন দ্রুত ঘাটে ভিড়তে চেষ্টা করে। কিন্তু ঘাটে ভেড়ার ঠিক আগে এটি হেলে অর্ধেক ডুবে যায়। লঞ্চের কত যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন নিখোঁজ তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে লঞ্চের এখনো প্রায় ৩০ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। অনেকে সাঁতরে তীরে ওঠেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/কিউএইচ/এমআই/ডিডি/এজে/জিএনএ/২০৩৭ ঘ. |